শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:সৌভাগ্য ও বিপুল সওয়াবের বার্তা নিয়ে আসে কদরের রাত। এ রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। মুমিন বান্দার জীবনে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত আর নেই। এ রাতের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত দামি। আল্লাহ বলেন, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত: ৩)
মুমিন জীবনে শ্রেষ্ঠ রাতের একটি শবে কদর। শব ফারসি শব্দ, অর্থ রাত। কদর আরবি শব্দ, অর্থ সম্মান, মর্যাদা বা ভাগ্য। আরবিতে এ রাতকে বলা হয় লাইলাতুল কদর। কোরআনেও এ রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়েছে। এ রাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে। এ রাতে আমল-ইবাদত করার অনেক ফজিলত রয়েছে। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ক্ষমাপ্রার্থনাকারীকে ক্ষমা করেন। গুনাহ মাফ করেন। প্রয়োজনপ্রত্যাশীর প্রয়োজন পূরণ করেন। মানুষের মনের আশা-আকাঙ্খা পূর্ণ করেন। মানুষের ডাকে সাড়া দেন।
শবে কদরের রাত কোনটি?
কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্ট করে কোনো রাতকে শবে কদরের রাত বলা হয়নি। তবে রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। বেজোড় রাতের যেকোনো একদিন শবে কদর হতে পারে। সেটা ২১, ২৩, ২৫, ২৭ কিংবা ২৯ হতে পারে। তবে কিছু আলামতের কথা বলা হয়েছে, যে আলামত দেখে বোঝা যেতে পারে যে, দিনটি শবে কদর কিনা। যেমন, রাত শেষে সকালের সূর্য অধিক উজ্জ্বল হয়ে উদয় হবে। রাত হবে প্রফুল্লময়, অধিক ঠান্ডা বা গরম নয়। চাঁদ উজ্জ্বল হবে। রাতে কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না। নুড়ি পাথরের চেয়ে বেশিসংখ্যক ফেরেশতা জমিনে নেমে আসবে। তবে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে ২৭ রমজানের রাতটি শবে কদরের রাত মনে করে সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শবে কদরের নামাজের বিধান
কদরের রাতে নির্দিষ্ট কোনো ওয়াজিব বা সুন্নত নামাজ নেই। মানুষ ইচ্ছামতো নফল নামাজ পড়তে পারবে। তবে নামাজ পড়াকে আবশ্যকীয় মনে করা যাবে না। এটা যেহেতু বরকত ও হাজারের মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত, সে হিসেবে এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া মোনাজাত করা যেতে পারে।
শবে কদরের নামাজের নিয়ত
মানুষের মনের ইচ্ছায় নিয়ত। যখন নামাজের জন্য জায়নামাজে দাঁড়ানো হয়, তখন মানুষের মাথায় থাকে, কোন ওয়াক্তের কোন নামাজ সে আদায় করছে। কদরের রাতে যখন কোনো নফল নামাজ পড়ার জন্য আমরা দাঁড়াই, তখন আমাদের স্মরণে থাকে, আমি নফল নামাজ আদায় করছি—এই স্মরণটাই মূলত নিয়ত। তবে স্মরণে বা নিয়তে কদরের নামাজ বলা যাবে না। কারণ, কদরের নামাজ বলতে কোনো নামাজ নেই। এভাবে নিয়ত করা যায়, ‘আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করছি।’ তারপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। আরবি নিয়ত করা আবশ্যকীয় নয়। আরবি নিয়তটি হলো—
বাংলা উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন উসল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতি লাইলাতিল কদর-নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।’
বাংলা অর্থ: আমি কাবামুখী বা কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য কদরের রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।
২৭ রমজানে মসজিদে নববিতে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। ছবি: হারামাইন
কদরের নামাজের নিয়ম
শবে কদরের যেমন নির্দিষ্ট কোনো নামাজ নেই, তেমনি নামাজ আদায়ের বিশেষ পদ্ধতি নেই। কত রাকাত নামাজ একসঙ্গে আদায় করতে হবে, এরকমও কোনো ব্যাপার নেই। দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করা যাবে এবং এটিই উত্তম। এ নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সুরা নেই। নামাজি ইচ্ছা বা পছন্দমতো সুরা পড়তে পারবে। অন্যান্য নফল নামাজের মতোই নামাজ আদায় করতে হবে। তবে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে দীর্ঘ কিরাত ও দীর্ঘ রুকু-সিজদাসহকারে নামাজ পড়া উত্তম। নামাজের সিজদাগুলো দীর্ঘ হওয়া ভালো। এতে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কটা ভালো হয়। সিজদায় গিয়ে আল্লাহকে নিজের মনের কথাগুলো খুলে বলা যায়। দুই রাকাত করে যতখুশি নামাজ পড়া যাবে।
শবে কদরের দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রাতকে বেশ গুরুত্ব দিতেন। সাহাবিদেরও এ ব্যাপারে তাগিদ করেছেন। আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর গুরুত্ব অনুধাবন করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি এ রাত পেলে কোন দোয়াটি পড়ব। তখন নবীজি (সা.) তাকে এ দোয়াটি শিখিয়ে দেন। দোয়াটি হলো-
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাক আফুউয়ুন কারিমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)